নারীর ক্ষমতায়ন

আজ আমি নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কয়েকটি কথা বলতে চাই। এই যে টার্ম Women Empowerment, এর মানে কিন্তু স্রেফ ভালো চাকরি করা কিংবা নারীর হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা তুলে দেওয়া নয়।

আমার মতে নারী ক্ষমতায়ন মানে নারী মুক্তির লক্ষ্যে নারীরাই দেবে নতুন পথের দিশা, যে পথে হাঁটলে আমাদের সামাজিক, আর্থিক তথা আত্বিক উন্নতি নিশ্চিত হবে।

তবে এটি প্রতিষ্ঠা করতে গেলে যে বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো – নারীর চিন্তার স্বাধীনতা। আমাদের সমাজে নারীরা পুরুষের পারমিশন কিংবা ভ্যালিডেশন ছাড়া নিজের মত প্রকাশের সাহস যোগাতে পারেন না। একটা আইডিয়া শেয়ার করতে গেলে শুনতে হয় – বাদ দেন, বেডি মানুষ। এই কালচার থেকে বেরোতে হবে আমাদের। নারীর সীমাবদ্ধতার প্রাচীর ভাঙতে পুরুষকে হাতিয়ার যোগাড় করে দিতে হবে।

আমার দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো নারীর পোষাকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আজ আমি নেকাব পরি বলে আমাকে জাশি ট্যাগ দেওয়া যাবেনা। কাল আমি নেকাব ছাড়া ভিডিও আপ্লোড দিলে ইসলাম অবমাননার দায়ে আমার দিকে আঙুল তোলা যাবেনা। কর্পোরেট জবে হিজাব বা নেকাব পরার কারনে শো কজ করতে বলা যাবেনা। That’s what I mean by পোষাকের স্বাধীনতা। Point to be noted, শালীন পোষাক পরা কোন নির্দিষ্ট ধর্মের বানী নয়। এটি পশু এবং মানুষের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয়কারী একটা বেসিক ফ্যাক্টর।

তৃতীয়ত, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার আগে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং নারী ও শিশু বান্ধব সমাজ নিশ্চিত করতে হবে সবার আগে।

মেয়েরা যুক্তি বুঝেনা, কাইন্দা জিত্তে চায়! পরিচিত লাগছে? এধরনের কথাবার্তা না শুনতে চাইলে নারীদের প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গঠন করতে হবে। কারন যুক্তিতর্ক করার জন্য, নিজের কন্ঠ কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রতিদিন বই পড়ার বিকল্প নেই।

আরেকটি কথা না বললেই নয়। আমাদের মেয়েরা প্রচন্ড আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এ ভুগে। নিজের অর্জন কখনো বাবার নামে, কখনো স্বামীর নামের নিচে ধামাচাপা পড়ে যায়। আবহমানকাল থেকে চলে আসা এই নিয়ম আমরা হুট করে বদলাতে পারিনা। তবে যা বদলাতে পারি তা হলো আমাদের মাইন্ডসেট। নিজেকে এতো বেশি স্কিল্ফুল করতে হবে যেন মানুষ আপনাকে না, আপনার মেইল পার্টনার কে হিংসা করে। দেখা হলে বলে – ভাই, আপনি জিতছেন!

আর নিজেকে ইম্প্রুভ করার সহজ রোডম্যাপ হলো ৪ ‘ম’। মগজে ভালো চিন্তার উদ্রেক করা – মননে তার প্রতিফলন ঘটানো – মুখ দিয়ে নিজের বিশ্বাসের কথা বলা এবং মিডিয়াতে তা তুলে ধরা।

স্বপ্ন দেখুন। স্বপ্ন দেখান। মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড় হয়। তবে আনরিয়েলিস্টিক গোল সেট করা যাবেনা। জীবনের ট্রাজেডি গুলোকে কমেডি হিসেবে দেখতে শিখুন। জগতের উচ্চ বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন মানুষের প্রায় সবাই উঁচু মাপের রসিক ছিলেন। আইন্সটাইন তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব বুঝাতে গিয়ে বলেছিলেন, ১ মিনিট চুলার পাশে বসে থাকুন, মনে হবে ১ ঘন্টা। ১ ঘন্টা সুন্দরী নারীর পাশে বসে থাকুন, মনে হবে মাত্র ১ মিনিট। রসিকতার আশ্রয় না নিলে হয়তো বিজ্ঞানের কাটখোট্টা থিওরি কে এতো সাবলীল ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হতোনা।

সবশেষে বলবো, আমাদেরকে নিয়ে প্রাউড ফিল করে, চারপাশে এমন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। একে অপরের বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার রীতি চালু করতে হবে। Women Community যত এক্টিভ হবে, Women Empowerment ততো সহজ হবে।

✍️Jasmin Nahar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top